চুলের রঙ বদলে ফেলা মানেই লুকে এক ঝটকায় দারুণ একটা ট্রেন্ডি ও স্টাইলিশ পরিবর্তন নিয়ে আসা। তবে মনের মতো কালার করলেই তো হবে না, তা যেন আপনার স্কিন টোনের সাথে নিখুঁতভাবে মানানসই হয় এবং চুলের ক্ষতি না করে দীর্ঘদিন টিকে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
সাজগোজের আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব আপনার স্কিন টোন অনুযায়ী পারফেক্ট হেয়ার কালার শেড কীভাবে বেছে নিবেন, কালার করার সময় কী করবেন আর কী করবেন না (Do's and Don'ts) এবং কতদিন পর পর চুল কালার করা নিরাপদ।
স্কিন টোন অনুযায়ী পারফেক্ট হেয়ার কালার শেড (Shade Selection by Skin Tone)
চুলের রঙ বাছাই করতে গেলে সবার আগে জানা দরকার আপনার স্কিন টোন (Skin Tone) ও আন্ডারটোন (Undertone) কেমন। আন্ডারটোন সাধারণত তিন প্রকারের হয়—ওয়ার্ম (Warm), কুল (Cool) এবং নিউট্রাল (Neutral)।
১ ওয়ার্ম স্কিন টোন (Warm Skin Tone):
আন্ডারটোন: যাঁদের ত্বকে হলুদ, সোনালী বা পিচ আভা রয়েছে।
মানানসই শেড: ক্যারামেল ব্রাউন, হানি ব্লন্ড, কপার, ওয়ার্ম চকলেট ব্রাউন এবং বারগেন্ডি।
এড়িয়ে চলুন: অ্যাশ বা সিলভার শেড, যা এই স্কিন টোনে ত্বককে কিছুটা মলিন দেখাতে পারে।
২ কুল বা টোন (Cool Skin Tone):
আন্ডারটোন: যাঁদের ত্বকে গোলাপি, লাল বা নীলচে আভা থাকে।
মানানসই শেড: অ্যাশ ব্রাউন, প্ল্যাটিনাম ব্লন্ড, জেট ব্ল্যাক, কুল চকোলেট এবং ভাইব্র্যান্ট প্লাম বা ডিপ রেড।
এড়িয়ে চলুন: সোনালী বা অতিরিক্ত ইয়েলো-ব্রাউন শেড।
৩ নিউট্রাল স্কিন টোন (Neutral Skin Tone):
আন্ডারটোন: ওয়ার্ম ও কুল—দুটোরই মিশ্রণ।
মানানসই শেড: এই স্কিন টোনের মানুষেরা প্রায় যেকোনো শেডই দারুণভাবে ক্যারি করতে পারেন। তবে মেহগনি, ডার্ক ব্রাউন বা ক্লাসিক চকোলেট শেডে এদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লাগে।
হেয়ার কালার করার সময় যা করবেন ও যা করবেন না (Do’s and Don’ts)
চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রেখে পারফেক্ট কালার পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলা খুব দরকার:
✅ যা করবেন (Do's):
প্যাচ টেস্ট (Patch Test) করুন: কালার লাগানোর অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে ত্বকে সামান্য লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করে নিন, যাতে কোনো অ্যালার্জির সমস্যা না হয়।
ভালো মানের প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন: চুল সুরক্ষিত রাখতে অ্যামোনিয়া-মুক্ত (Ammonia-free) এবং ভালো ব্র্যান্ডের কালার ব্যবহার করুন।
কালার প্রটেক্টেড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন: চুল কালার করার পর সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহার না করে কালার-প্রটেক্টেড বা সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু বেছে নিন, যাতে রঙ তাড়াতাড়ি ফিকে না হয়ে যায়।
❌ যা করবেন না (Don'ts):
একসাথে ব্লিচ ও অতিরিক্ত কেমিক্যাল নয়: চুল খুব বেশি ড্যামেজড থাকলে ব্লিচ করে লাইট শেড করার ঝুঁকি নিবেন না।
চুল কালার করার সাথে সাথেই শ্যাম্পু করবেন না: চুল কালার করার অন্তত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত শ্যাম্পু করা থেকে বিরত থাকুন। এতে চুলের কিউটিকলে রঙ ভালোভাবে বসে যাওয়ার সুযোগ পায়।
অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং এড়িয়ে চলুন: কালার করা চুলে স্ট্রেইটনার বা কার্লিং রডের অতিরিক্ত ব্যবহার চুলকে আরও বেশি রুক্ষ করে তোলে।
কতদিন পর পর চুল কালার করা নিরাপদ? (How Often Can You Color?)
সাধারণত নতুন চুল গজানোর সাথে সাথে বা চুলের গোড়ার রুট গ্রোথ (Root Growth) ঢাকার জন্য প্রতি ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ পর পর রুট টাচ-আপ (Root Touch-up) করা যেতে পারে।
তবে পুরো চুলে পার্মানেন্ট কালার বা বারবার ব্লিচ করার ক্ষেত্রে অন্তত ২ থেকে ৩ মাস (৮-১২ সপ্তাহ) বিরতি দেওয়া উচিত। ঘন ঘন কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করলে চুল তার স্বাভাবিক ময়েশ্চার হারিয়ে ভেঙে যেতে পারে। তাই মাঝেমধ্যে চুলে ডিপ কন্ডিশনিং বা হেয়ার স্পা করার অভ্যাস রাখুন।
চুলের সঠিক যত্ন এবং আপনার ব্যক্তিত্বের সাথে মানানসই শেড বেছে নিলেই হেয়ার কালার আপনাকে দেবে এক দারুণ কনফিডেন্ট ও স্টাইলিশ লুক! আপনার পরবর্তী মেকওভারে কোন রঙটি ট্রাই করছেন, তা কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু!







