নবজাতকের ত্বক প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় প্রায় ৩ গুণ বেশি পাতলা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল। অসাবধানতাবশত ছোটখাটো ভুলেও শিশুর ত্বকে র্যাশ, শুষ্কতা বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। নবজাতকের ত্বকের পরিচর্যায় সচরাচর যে ৫টি ভুল করা হয় এবং সেগুলোর সঠিক সমাধান নিচে তুলে ধরা হলো:
১. অতিরিক্ত গোসল করানো
ভুল: নতুন মায়েরা অনেকেই মনে করেন শিশুকে প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল করানো জরুরি। কিন্তু প্রতিদিন সাবান ব্যবহারে শিশুর ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায়।
সমাধান: প্রথম কয়েক মাস সপ্তাহে ২–৩ দিন হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করানোই যথেষ্ট। বাকি দিনগুলোতে পরিষ্কার সুতি ভিজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে (Sponge Bath) দিতে পারেন।
২. হার্শ বা কৃত্রিম গন্ধযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার
ভুল: বড়দের ব্যবহারের জন্য তৈরি বা তীব্র সুবাসযুক্ত শ্যাম্পু, লোশন ও সাবান শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সমাধান: সবসময় Hypoallergenic, Paraben-Free, এবং Fragrance-Free মাইল্ড বেবি প্রোডাক্ট বেছে নিন।

৩. ভেজা ত্বকে দ্রুত ডায়াপার পরানো
ভুল: গোসল বা ধোয়ানোর পরপরই ত্বক পুরোপুরি না শুকিয়ে ডায়াপার পরিয়ে দেওয়া। এতে খুব দ্রুত ছত্রাক (Fungal infection) বা ডায়াপার র্যাশ সৃষ্টি হয়।
সমাধান: ডায়াপার এরিয়া পরিষ্কার করার পর তা বাতাসে পুরোপুরি শুকাতে দিন। এরপর জিংক অক্সাইডযুক্ত ডায়াপার র্যাশ ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ডায়াপার পরান।
৪. অতিরিক্ত টেলকম পাউডার ব্যবহার
ভুল: শিশুর শরীর শুষ্ক ও সুবাসিত রাখতে অনেকে অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার করেন। পাউডারের সূক্ষ্মকোণ শিশুর শ্বাসনালীতে গিয়ে শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে।
সমাধান: পাউডারের বদলে হালকা বেবি লোশন বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। পাউডার ব্যবহার করতে চাইলে তা কখনো সরাসরি শিশুর মুখে বা শরীরে না ছিটিয়ে আগে নিজের হাতে নিয়ে আলতোভাবে লাগান।

৫. নতুন কাপড় না ধুয়ে পরানো
ভুল: বাজার থেকে নতুন কেনা কাপড়ে বিভিন্ন কেমিক্যাল বা স্টার্চ থাকে, যা না ধুয়ে শিশুকে পরালে ত্বকে ইরিটেশন বা র্যাশ হতে পারে।
সমাধান: শিশুর যেকোনো নতুন পোশাক পরানোর আগে মাইল্ড বেবি ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে এবং ভালো করে রোদে শুকিয়ে নিন।
নবজাতকের ত্বক সবসময় পরিষ্কার, শুষ্ক ও স্বাভাবিকভাবে আর্দ্র রাখাই হলো মূল চাবিকাঠি। ত্বকে তীব্র লালচে ভাব বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে ঘরোয়া ব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।







